1. admin@kalerkolorob24.com : kalerkolorob24.com :
শুক্রবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২০, ০৭:৩৩ পূর্বাহ্ন

সরাইলে শিক্ষকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ও জোরপূর্বক রাস্তা নেওয়ার পায়তারা

  • প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২০
  • ৩০ বার পড়া হয়েছে

সরাইল প্রতিনিধি: সরাইলে এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ও বাড়ী হতে জোরপূর্বক রাস্তা নেওয়ার পায়তারার অভিযোগ পাওয়া গিয়াছে।

সরাইলের অরয়াইল গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নিরীহ এক শিক্ষক দম্পতি প্রভাবশালী প্রতিপক্ষের দ্বারা শারিরীকভাবে লাঞ্ছিত হওয়াসহ মিথ্যা মামলায় নানাভাবে হয়রাণির শিকার হয়েছেন। ওই স্কুল শিক্ষকের বাড়ির ওপর দিয়ে জোরপূর্বক রাস্তা নেওয়ার জন্যই তাকে হুমকি ধমকিসহ নানা ভাবে হয়রানি করা হচ্ছে বলে ওই শিক্ষকের দাবি। ওই শিক্ষকের অভিযোগ উপজেলা চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত সালিশ সভার রায়ও মানছেন না তার প্রতিপক্ষ। সম্প্রতি ওই স্কুল শিক্ষক তার দখলীয় বাড়িতে সীমানা দেওয়াল নির্মাণ করতে গেলে তার প্রতিপক্ষ মিথ্যা মামলা দিয়ে কাজ বন্ধ করে দেয়। যদিও প্রতিপক্ষ তার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান কোন সালিশ করেননি এবং কাগজপত্র মূলেই রাস্তা তার প্রাপ্য।

জানা গেছে,উপজেলার অরুয়াইল গ্রামের মৃত রাজমোহন দাসের ছেলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাম চন্দ্র দাস পৈত্রিক ওয়ারিশসূত্রে এবং এওয়াজ বদল দলিলমূলে সাবেক সেঃমেঃ ১১৬৩ দাগে হালে ২১৯৮দাগে ১২ শতক এবং সাবেক সেঃ মেঃ ১১৬৬ দাগে হালে ২১৯৯ দাগে এক শতক মোট ১৩ শতক ভিটি বাড়ি তার নামে বিএস খতিয়ান এবং নামজারি করে দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছেন।তিনি দাবি করেন উল্লেখিত দুদাগের ওপর দিয়ে অতীতে কোন রাস্তা ছিলনা এবং বর্তমানেও কোন রাস্তা নাই। তিনি জানান,তার পেছনের বাড়ির (২১৯৭ দাগ) বাসিন্দা প্রভাবশালী ব্যবসায়ী বাদল চন্দ্র দাস তার (রামচন্দ্র দাসের) বাড়ির উত্তর পাশের ২১৯৬ দাগ এবং দক্ষিণ পাশের ২২০০ দাগের পারিবারিক রাস্তা দিয়ে চলাচল করতেন। সম্প্রতি বাদল চন্দ্র দাস শিক্ষক রাম চন্দ্র দাসের বাড়ির ২১৯৮ দাগের ওপর দিয়ে তাদের রাস্তা আছে দাবি করে অরুয়াইল ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত আবেদন করেন।আবেদনের প্রেক্ষিতে ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ মোশারফ হোসেন ভূইয়া ২০১৭ সালে একাধিক শুনানি করলেও কোন সুরাহা হয়নি।

শিক্ষক রাম চন্দ্র দাসের দাবি, এরপর ২০১৭ সালের ৪ আগস্ট বাদল চন্দ্র দাসের বাড়িতে মাননীয় ইউপি চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূইয়াসহ গন্যমান্য সালিশকারকদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত সালিশ সভায়ও উভয় পক্ষের কাগজ পত্র পর্যালোচনা করে শিক্ষক রাম চন্দ্র দাসের বাড়ির ওপর দিয়ে কোন রাস্তা নাই বলে সালিশ কারকগণ অভিমত দেন।তিনি জানান, বাদল চন্দ্র দাস এতে সন্তুুস্ট হতে না পেরে সরাইল সহকারি কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে নালিশ করেন। এ সংক্রান্তে ২০১৯ সালের ১৩ জুন সহকারি কমিশনার ভূমির অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ,এস, এম মুসার উপস্থিতিতে শুনানি হয়। উভয় পক্ষের কাগজ পত্র দেখে ইউএনও বলেন রাম চন্দ্র দাস রাস্তা না দিলে তার করার কিছু নাই।বিষয়টি আদালতের এখতিয়ার। রাম চন্দ্র দাসের অভিযোগ, বাদল চন্দ্র দাস তার দাবি প্রতিষ্ঠা করতে না পেরে আক্রোশবশত ২০১৯ সালের ২১ জুন কতিপয় অজ্ঞাত লোকদের দিয়ে শিক্ষক রামচন্দ্র দাসের বাড়িতে অতর্কিত হামলা করিয়ে তাকে এবং তার স্ত্রীকে আহত করলে তারা ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেন। চিকিৎসাশেষে তিনি ২০১৯ সালের২৮ জুন সরাইল থানায় এক অভিযোগ দায়ের করেন। তিনি আরো অভিযোগ করেন, গত ১৩ অক্টোবরে তার বাড়ির উত্তর দিকে সীমানা দেয়াল নির্মাণ করতে গেলে প্রতিপক্ষ বাদল চন্দ্র দাস এতে বাধাঁ দেন এবং ১৪৪ ধারায় মামলা করে তার কাজ বন্ধ করে দেন । এ ছাড়াও আরো একটি মিথ্যা মামলা দিয়ে তাকে হয়রাণিসহ সামাজিক ভাবে হেয় করছেন। এ ব্যাপারে অরুয়াইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ মোশাররফ হোসেন ভূইয়া বলেন, বিষয়টি নিয়ে এলাকায় একাধিক সালিশ সভা হলেও আমরা কোন সুরাহা দিতে পারেনি। তবে পরে সরাইল উপজেলা চেয়ারম্যান রফিক উদ্দিন ঠাকুর সালিশ করে রায় দিয়েছিলেন। এরপর আর কেউ আমার কাছে আসেনি।

এ বিষয়ে বাদল চন্দ্র দাসের সাথে যোগাযোগ করলে তার বিরুদ্ধে আনীত সব অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, আমি সোলেনামা মূলে রামচন্দ্র দাসের বাড়িতে রাস্তার এক শতক জায়গা পাওনা। সে অন্যায় ভাবে আমার জায়গা জোরপূর্বক দখল করে আছে।উপজেলা চেয়ারম্যান কোন রায় দেননি বলেও তিনি দাবি করেন।

এ বিষয়ে তৎকালীন সহকারি কমিশনার (ভূমি) এর অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সরাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার শুনানীর কথা স্বীকার করে বলেন, যতদূর মনে পড়ে উপজেলা চেয়ারম্যান এ বিষয়ে একটি সিদ্ধান্ত দিয়ে ছিলেন।

সরাইল উপজেলা চেয়ারম্যান রফিক উদ্দিন ঠাকুর এ বিষয়ে জানান, খরিদমূলে কিংবা উত্তরাধিকর সূত্রে কোন ভাবেই নালিশা ভূমিতে বাদল চন্দ্র দাসের কোন অধিকার নাই। তারপরও মানবিক কারনে আমি উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সহ উপজেলা আওয়ামী লীগের আরো নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে শিক্ষক রাম চন্দ্র দাসের বাড়ির দক্ষিন দিক দিয়ে ৮৭ পয়েন্ট জায়গা রাস্তার জন্য ছেড়ে দেওয়ার জন্য রায় করেছিলাম এবং বিনিময়ে বাদল দাস তার বাড়িতে থেকে এক শতক চুয়াত্তর পয়েন্ট জায়গা ওই শিক্ষককে দেবেন। উভয় পক্ষই ওই সময় রায মেনে নেয়। এখন শুনছি বাদল চন্দ্র দাস শিক্ষক রাম চন্দ্র দাসের বাড়ির উত্তর দিক দিয়ে রাস্তা দাবি করছে ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© স্বর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
এই ওয়েবসাইটের লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।